ইন্টারনেট ব্যবহার করে অর্থ আয়ের নানা উপায়ের
মধ্যে একটি হলো ফেসবুক। শুধু ফেসবুকের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ
উপার্জন করা যায় এমনকি কোটিপতি হওয়া সম্ভব তাই দেখিয়েছেন একজন বাংলাদেশী
তরুণ। দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা আর কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে এ কাজে সফল হয়েছেন
লন্ডন প্রবাসী আবির খান। ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটির সদস্য আবির খান
কম্পিউটার সায়েন্সে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অভ লন্ডন থেকে গ্র্যাজুয়েশন
করেন ২০১১ সালে। এই মাইক্রোসফট সার্টিফায়েড সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (এমসিএসই) গতানুগতিক
চাকরির চিন্তা না করে দীর্ঘ ৬ বছর অনলাইনে মার্কেটিং করতে গিয়ে খোঁজা শুরু
করেন ফেসবুক থেকে আয়ের উপায়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এটা নিয়ে গবেষণা করে
খুঁজে বের করেন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে যে কেউই খুব সহজেই ফেসবুক থেকে আয়
করতে পারবেন। ফেসবুকের মাধ্যমে আয় করা অর্থ দিয়েই বর্তমানে লন্ডনে নিজ
বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এই বাংলাদেশী তরুণ কোটিপতি, কিনেছেন দামি গাড়িও।
ফেসবুকের মাধ্যমে আয়ের এই পদ্ধতিটি প্রথমে
পরীক্ষামূলকভাবে তিনি লন্ডনের স্থানীয় কিছু ছাত্রকে শেখান। খুব অল্প দিনেই
এই ছাত্ররা দৈনিক ৩শ’ থেকে ৫শ’ ডলার আয় করা শুরু করেন। দেশের মানুষের
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ভেবে তিনি এই পদ্ধতিটি বিচ্চারের পরিকল্পনা করেন
বাংলাদেশেও। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি প্রকাশ করেন ‘ফেসবুক ক্যাশ
ফর্মূলা’ নামে একটি ই-বুক।
পেশায় ফুলটাইম ইন্টারনেট মার্কেটার ও ওয়েব কনসালটেন্ট আবির খান অনলাইনে
বিশ্বব্যাপী এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে কীভাবে অনলাইনে আয় করতে হয় তা
শিখিয়েছেন।
২৯ বছর বয়সী ব্যাচেলর আবির খানের জন্ম সিলেটে। তার মা মনোয়ারা বেগম রূপালী ব্যাংকের ম্যানেজার ও বাবা মেজর মো. আলমগীর। তিন ভাইয়ের মধ্যে আবির সবার ছোট। বড় ভাই এ বি এম আশরাফুল আলম (সুমন) এমবিএ সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং মেঝো ভাই মো. মাসুম-উল আলম (মাসুম) এমএসএস সম্পন্ন করে ব্যবসার সাথে জড়িত।
আবির খান বলেন, ‘২০০৮
সালে আমি লন্ডনে একটি সেমিনরে অংশগ্রহণ করি এবং সেই সেমিনার থেকেই আমার
মূলত ইন্টারনেটে মার্কেটিং জগতে আসা। যদিও আমার আইটি ব্যাকগ্রাউন্ড কিন্তু
ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের ব্যাপারে আমার আগে কোনো ধারণাই ছিল না আর যেটুকু
ছিল তা হলো যে বাড়ি বসে টাকা আয় করা সম্ভব নয়। তারপরও সেই সেমিনারের পর
ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে মার্কেটিং করতে করতে একদিন আমি
বুঝতে পারি যে এখান থেকে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব। তারপর অনেক গবেষণার পর
আমি একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করি যেটি দিয়ে প্রতিদিন ৩০০ ডলার আয় করা সম্ভব।
কিন্তু এই লেভেল পর্যন্ত আসার জন্য প্রথমে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।’
তিনি প্রথম ইন্টারনেটে আয় করা শুরু করেন ২০০৮ সালে। তার প্রথম আয় ছিল ৩৭ ডলার বর্তমানে তা ৪-৫ হাজার ডলার যা কখনো কখনো বেড়ে দাঁড়ায় ৮-১০ হাজার ডলারের মতো। তিনি জানান, ফেসবুক
মার্কেটিং করার জন্য প্রয়োজন একটি ফেসবুক একাউন্ট এবং একটি ফ্যানপেজ। কারো
শুধু সদিচ্ছা আর টাকা আয় করার মানসিকতা এবং সেই সাথে কম্পিউটার ও
ইন্টারনেট সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি ঘরে বসে
টাকা আয় করতে পারবেন।
তার আবিকৃত এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আমাদের বেকার সমাজকে আয়ের পথ দেখানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘প্রতি
বছর ৪ হাজার বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এর থেকে যদি
আমরা শতকরা এক ভাগও নিয়ে আসতে পারি আমাদের দেশে তাহলে আমাদের দেশে আর কোনো
বেকার থাকবে না। বর্তমানে আমাদের দেশে ৬ কোটি শিক্ষিত বেকার আছেন যাদেরকে
আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারি। এজন্য
আমাদের যা করতে হবে তা হলো আমাদের দেশের বেকার যুবকদেরকে ইন্টারনেট
মার্কেটিংয়ের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। আমার আবিষ্কৃত এই
পদ্ধতিটি যদি সঠিকভাবে বাংলাদেশের তরুণরা ব্যবহার করেন তাহলে জাতীয়
অর্থনীতিতে এক বিশাল ভূমিকা রাখা যাবে বলে আমি মনে করি।’
ইন্টারনেট বা ফেসবুক ব্যবহার করে আয় করতে
গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাংলাদেশে পেপাল সাপোর্ট করে না। আবির খান এমন
একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যা ব্যবহার করে বাংলাদেশে বসে ভেরিফাইড পেপাল
একাউন্ট করা সম্ভব। যদি কারো ভেরিফাইড পেপাল একাউন্ট থাকে তাহলে তার আর
কোনো সমস্যাই থাকবে না।
তিনি মনে করেন, এখন
ফেসবুক আর অহেতুক সময় নষ্ট করার জায়গা নয়। ফেসবুক হলো মানি মেশিন যদি আপনি
জানেন কীভাবে এটাকে কাজে লাগিয়ে উপার্জন করা যায়। তাই আবির খান বিভিন্ন
সভা, সেমিনার, ওয়েবিনার (ওয়েব বেজড সেমিনার), ওয়ার্কশপ
আয়োজন করছেন নিয়মিত যাতে এই পদ্ধতিটি সম্পর্কে মানুষ খুব সহজেই জানতে
পারেন। এসব তিনি আয়োজন করতে চান দেশের প্রতিটি জেলায়। এরই ধারাবাহিকতায় খুব
শীঘ্রই চট্টগ্রামেও ওয়ার্কশপ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি।
আবির খানের উদ্ভাবিত ‘ফেসবুক ক্যাশ ফর্মুলা‘ ও চট্টগ্রামে ওয়ার্কশপ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৯১ ৬৮১ ৬৬২ নম্বরে বা support@bdonlineincome.com ইমেইলে অথবা ভিজিট করুন BdOnlineincome.com

hello
উত্তরমুছুন